চিটফান্ড কাণ্ডে ED-র মেগা তল্লাশি, ২,০০০ কোটির আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ
চিটফান্ড কাণ্ডে ED-র মেগা তল্লাশি
চিটফান্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করে আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED একাধিক জায়গায় মেগা তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত এবং উদ্ধার হওয়া নথির ভিত্তিতে এই আন্তঃরাজ্য আর্থিক জালিয়াতির পরিমাণ প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৮২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ
তদন্তের অংশ হিসেবে মোট ১৮২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে চিটফান্ডের টাকা লেনদেন করা হয়েছিল। তল্লাশি অভিযানে কয়েক কোটি টাকা নগদ এবং বিভিন্ন সন্দেহজনক ডিজিটাল লেনদেনের তথ্যও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পত্তির নথি উদ্ধার
চিটফান্ডের টাকা ব্যবহার করে কেনা হয়েছে বলে সন্দেহ করা একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে ED। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা জমি, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য রিয়েল এস্টেট সম্পত্তির নথিও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য কয়েকশো কোটি টাকা বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
কীভাবে চলত চিটফান্ড চক্র?
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই চক্রটি সাধারণ মানুষকে অল্প সময়ে টাকা দ্বিগুণ করা বা বিপুল রিটার্ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করত। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং অসমসহ একাধিক রাজ্যে এই চক্রের কার্যকলাপ ছড়িয়ে ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
PMLA আইনে তদন্ত
মামলাটির তদন্ত Prevention of Money Laundering Act বা PMLA-এর অধীনে করা হচ্ছে। আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি এবং চিটফান্ডের অর্থ কোথায় কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মূল হোতাদের জেরার প্রস্তুতি
তদন্তের পরবর্তী ধাপে চিটফান্ড চক্রের কথিত মূল হোতা এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এই বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নতুন করে সমন পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
বড় আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ
২,০০০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসায় এই চিটফান্ড মামলাটি তদন্তকারী সংস্থার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, নগদ অর্থ, বিলাসবহুল গাড়ি এবং রিয়েল এস্টেট সম্পত্তির মাধ্যমে চক্রটির আর্থিক নেটওয়ার্কের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: চিটফান্ড কাণ্ডে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে ১৮২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, নগদ অর্থ উদ্ধার এবং বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পত্তির নথি বাজেয়াপ্ত করার তথ্য সামনে এসেছে। মামলাটি PMLA-এর অধীনে তদন্ত করা হচ্ছে।