টেসলা চড়া ভুয়ো IAS গ্রেপ্তার, ‘ভারত সরকার’ স্টিকার থেকে ১০০ কোটির সম্পত্তি
টেসলা চড়া ভুয়ো IAS গ্রেপ্তার, কীভাবে ধরা পড়ল?
বিহারের খগড়িয়া জেলায় নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক ও IAS অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মণীশ কুমার গুপ্ত ওরফে চিক্কু নামে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোগরি থানার অন্তর্গত জামালপুর বাজার এলাকায় তার বিলাসবহুল বাংলোতে অভিযান চালিয়ে একাধিক দামি গাড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, কার্ড এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এক সপ্তাহ নজরদারির পর অভিযান
জেলা গোয়েন্দা শাখা বা DIU এবং STF-এর ১২ সদস্যের একটি বিশেষ দল প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অভিযুক্তের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালায়। এরপর তার বিলাসবহুল বাংলো ‘পরমেশ্বরী ভবন’-এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশি অভিযানে তার কথিত সরকারি পরিচয় এবং জীবনযাপন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে।
বাড়িতে Tesla Model Y, গাড়িতে ‘ভারত সরকার’ স্টিকার
অভিযুক্তের বাড়ি থেকে একটি কালো রঙের Tesla Model Y এবং একটি Tata Safari গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, দুটি গাড়িতেই বেআইনিভাবে ‘ভারত সরকার’ এবং ‘IAS’ লেখা সাইনবোর্ড ও স্টিকার ব্যবহার করা হয়েছিল। এই পরিচয় ব্যবহার করেই অভিযুক্ত বিহারের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী সরকারি আধিকারিকের মতো চলাফেরা করত বলে অভিযোগ।
অজিত ডোভালের ‘আন্ডারকাভার এজেন্ট’ দাবি
গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত নিজেকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের অধীনে কর্মরত ‘সিক্রেট আন্ডারকাভার এজেন্ট’ বলে দাবি করেছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে তদন্তে তার IAS এবং সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশন বা CVC-এর চিফ সিকিউরিটি অফিসার পরিচয়পত্র ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উদ্ধার হয়েছে দামি গাড়ি, আইফোন ও অন্যান্য সামগ্রী
তল্লাশি অভিযানে নগদ অর্থ ও গাড়ির পাশাপাশি বেশ কিছু দামি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি iPhone, ২টি MacBook, ২০টি ক্রেডিট কার্ড এবং ৮টি ডেবিট কার্ড। এছাড়াও তার বাড়ি থেকে ৩১ লিটারের বেশি বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বিহারে মদ নিষিদ্ধ থাকায় এই মদ ও বিয়ার উদ্ধারের ঘটনাও তদন্তের আওতায় এসেছে। একইসঙ্গে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দুটি বিলুপ্তপ্রায় বারশিঙ্গা বা জলাভূমির হরিণের শিংও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাঁচতলা বাংলো, সুইমিং পুল ও নিজস্ব থিয়েটার
অভিযুক্তের প্রায় আধ একর জমির ওপর তৈরি পাঁচতলা বাংলো নিয়েও তদন্তকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বাংলোটিতে সুইমিং পুল, নিজস্ব থিয়েটার এবং ২৫টিরও বেশি CCTV ক্যামেরা রয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তার মোট সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে।
কীভাবে প্রতারণা করত ভুয়ো IAS?
পুলিশের অভিযোগ, মণীশ কুমার গুপ্ত নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করত। সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, প্রশাসনিক কাজ সহজ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে দিল্লি, গাজিয়াবাদ এবং বিহারের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ।
সরকারি পরিচয় এবং বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করে নিজের প্রভাবশালী ভাবমূর্তি তৈরি করাই ছিল তার প্রতারণার অন্যতম কৌশল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। এখন পুলিশ তার আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির উৎস, ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
তদন্তে আরও তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা
অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড এবং অন্যান্য নথি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এগুলির মাধ্যমে সে কতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং প্রতারণার মাধ্যমে কত টাকা সংগ্রহ করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বিহারে ভুয়ো IAS পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে মণীশ কুমার গুপ্ত ওরফে চিক্কুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে Tesla Model Y, Tata Safari, ভুয়ো সরকারি পরিচয়পত্র, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাংক কার্ড এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের আইনি প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।