লোকসভায় পাস ‘কেরালা (অল্টারেশন অব নেম) বিল’, রাজ্যের নাম ‘কেরলম’ করার পথে আরও এক ধাপ
লোকসভায় পাস কেরালার নাম পরিবর্তনের বিল
কেরালার নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ১১ অগস্ট ২০২৬ সংসদের বাদল অধিবেশনে লোকসভায় ‘কেরালা (অল্টারেশন অব নেম) বিল, ২০২৬’ ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে। বিরোধী সাংসদদের স্লোগান ও হট্টগোলের মধ্যেই বিলটি কোনও বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই অনুমোদিত হয়। বিলটির লক্ষ্য ভারতের সংবিধানের প্রথম তফসিলে রাজ্যের নাম ‘Kerala’-র পরিবর্তে ‘Keralam’ করা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লোকসভায় বিলটি পেশ করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিলটি পেশ করার কথা থাকলেও তিনি সেই সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন না। বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই নিত্যানন্দ রাই বিলটি পেশ করেন এবং পরে ধ্বনিভোটে তা পাস হয়।
কেন ‘কেরালা’ থেকে ‘কেরলম’?
কেরলের সরকারি ও প্রচলিত মালয়ালম নাম ‘കേരളം’ বা ‘Keralam’। কিন্তু ভারতের সংবিধানের প্রথম তফসিলে রাজ্যের নাম ইংরেজিতে ‘Kerala’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। রাজ্যের নামের এই পার্থক্য দূর করে সাংবিধানিক নথিতেও মালয়ালম নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার লক্ষ্যেই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
এই উদ্যোগের সূত্রপাত কেরালা বিধানসভার একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব থেকে। ২৪ জুন ২০২৪ কেরালা বিধানসভা রাজ্যের নাম ‘Kerala’ থেকে ‘Keralam’ করার জন্য প্রস্তাব গ্রহণ করে। এরপর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে সংবিধানের প্রথম তফসিলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন
কেরালা বিধানসভার প্রস্তাবের পর নাম পরিবর্তনের বিষয়টি কেন্দ্রের বিবেচনায় আসে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘Kerala’ নাম পরিবর্তন করে ‘Keralam’ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। এরপর প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, কেরালা বিধানসভা রাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য যে অনুরোধ জানিয়েছিল, তার ভিত্তিতেই সংবিধানের প্রথম তফসিলে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে এই বিল আনা হয়েছে। লোকসভায় বিলটি পাস হওয়ার ফলে সেই প্রক্রিয়া এখন আরও এক ধাপ এগোল।
বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই ধ্বনিভোট
বিলটি যখন লোকসভায় পেশ ও পাস হয়, তখন বিরোধী সাংসদরা বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। সংসদে স্লোগান ও হট্টগোলের মধ্যেই কেরালার নাম পরিবর্তনের বিলটি ধ্বনিভোটে অনুমোদিত হয়। ফলে বিলটির ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। একই সময়ে সংসদে অন্যান্য বিষয় নিয়েও সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়।
বিলটি পেশ করার সময় নিত্যানন্দ রাই কেরালার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবকে সমর্থন করার বিষয়ে কংগ্রেস সাংসদদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, কেরালা বিধানসভা যখন সর্বসম্মতভাবে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস করেছিল, তখন কেন্দ্রের আনা বিলের বিরোধিতার কারণ স্পষ্ট হওয়া দরকার।
এখনই কি কেরালার নাম সরকারি ভাবে ‘কেরলম’ হয়ে গেল?
না। লোকসভায় বিল পাস হওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের সাংবিধানিক নাম পরিবর্তন হয়ে যাওয়া নয়। বিলটিকে এখনও সংসদের আইন প্রণয়নের পরবর্তী ধাপগুলি অতিক্রম করতে হবে। লোকসভার পর বিলটি রাজ্যসভায় বিবেচনার জন্য যাবে। উভয় কক্ষে অনুমোদন পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন হবে।
নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি সংবিধানের প্রথম তফসিলে সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত। সংবিধানের ধারা ৩ অনুযায়ী রাজ্যের নাম বা সীমানা পরিবর্তনের জন্য সংসদ আইন প্রণয়ন করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভার মতামত নেওয়ার জন্য বিলটি পাঠান। কেরালা বিধানসভা ইতিমধ্যেই ‘Keralam’ নামের পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
পরবর্তী ধাপ কী?
লোকসভায় পাস হওয়ার পর এখন কেরালা (অল্টারেশন অব নেম) বিল, ২০২৬ রাজ্যসভায় যাবে। সেখানে অনুমোদন পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতির বিষয়টি আসবে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই সংবিধানের প্রথম তফসিলে নাম পরিবর্তন কার্যকর হবে। তাই বর্তমান অবস্থায় বলা যায়, ‘Kerala’ থেকে ‘Keralam’ করার প্রক্রিয়া এগিয়েছে, কিন্তু নাম পরিবর্তন এখনও চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ১১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত লোকসভা ‘কেরালা (অল্টারেশন অব নেম) বিল, ২০২৬’ পাস করেছে। বিলটি এখনও আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার জন্য পরবর্তী সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা বাকি।