তামিলনাড়ু বিধানসভায় NEET বাতিলের প্রস্তাব, দ্বাদশের নম্বরেই মেডিক্যালে ভর্তির দাবি

তামিলনাড়ু বিধানসভায় NEET বাতিলের প্রস্তাব, দ্বাদশের নম্বরেই মেডিক্যালে ভর্তির দাবি

তামিলনাড়ুতে NEET বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?

তামিলনাড়ু বিধানসভায় রাজ্যকে NEET পরীক্ষা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার দাবি তুলে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। রাজ্য সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, NEET-এর পরিবর্তে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পড়ুয়াদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে রাজ্যে MBBS ও BDS-সহ মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করা উচিত।

কেন NEET-এর বিরুদ্ধে অবস্থান তামিলনাড়ুর?

তামিলনাড়ু সরকারের বক্তব্য, NEET পরীক্ষার কারণে রাজ্যের বহু মেধাবী পড়ুয়া মেডিক্যাল শিক্ষায় সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে দরিদ্র, গ্রামীণ এবং প্রান্তিক পরিবারের পড়ুয়াদের জন্য ব্যয়বহুল কোচিংয়ের খরচ বহন করা কঠিন। সরকারের দাবি, শুধুমাত্র একটি সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার ফলের উপর নির্ভর না করে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার ফলকেও মেডিক্যাল ভর্তির ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

২০২৪ ও ২০২৫ সালের NEET পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস, গ্রেস মার্কস এবং পরীক্ষার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তামিলনাড়ু সরকার। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের নিজস্ব ভর্তি ব্যবস্থা চালুর দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

দ্বাদশের নম্বরের ভিত্তিতে MBBS ও BDS ভর্তি

তামিলনাড়ুর প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার নম্বর মেডিক্যাল ভর্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হতে পারে। রাজ্য সরকারের দাবি, এতে পড়ুয়াদের স্কুল-স্তরের দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে এবং আলাদা করে ব্যয়বহুল কোচিংয়ের উপর নির্ভরতা কমতে পারে।

  • NEET থেকে তামিলনাড়ুকে অব্যাহতির দাবি
  • দ্বাদশ শ্রেণির নম্বরের ভিত্তিতে মেডিক্যাল ভর্তির প্রস্তাব
  • MBBS ও BDS কোর্সে বিকল্প ভর্তি ব্যবস্থার দাবি
  • দরিদ্র ও গ্রামীণ পড়ুয়াদের সুযোগ বাড়ানোর যুক্তি
  • ব্যয়বহুল কোচিং নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য

মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান যুক্তি কী?

তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, NEET-এর জন্য অনেক পড়ুয়াকে দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষ কোচিং নিতে হয়। শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের পড়ুয়ারা এই সুযোগে পিছিয়ে থাকতে পারেন। ফলে শুধুমাত্র NEET স্কোরের উপর ভিত্তি করে মেডিক্যাল ভর্তি করলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়তে পারে বলে রাজ্যের দাবি।

এছাড়া শিক্ষা সংবিধানের Concurrent List-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রাজ্যগুলিরও শিক্ষা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত বলে তামিলনাড়ু সরকার মনে করছে। এই যুক্তির ভিত্তিতেই রাজ্যের নিজস্ব মেডিক্যাল ভর্তি ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিল পাঠানোর দাবি

বিধানসভায় প্রস্তাব পাস হওয়ার পর রাজ্যপালকে সংশ্লিষ্ট বিলটি পুনরায় রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর আগে তামিলনাড়ুর NEET-সংক্রান্ত একটি বিল দীর্ঘ সময় রাজভবনে আটকে থাকার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এবার দ্রুত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে রাজ্যের এই উদ্যোগ কার্যকর করতে কেন্দ্র ও রাষ্ট্রপতির পর্যায়ে পরবর্তী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অন্যান্য রাজ্যেও কি NEET নিয়ে চাপ বাড়ছে?

তামিলনাড়ুর পদক্ষেপের পর NEET-এর বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে অন্যান্য রাজ্যেও আলোচনা বাড়তে পারে। পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক এবং ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলিতেও NEET ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রশ্ন তোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

NEET বাতিলের প্রস্তাব কেন গুরুত্বপূর্ণ?

তামিলনাড়ুর এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র একটি রাজ্যের মেডিক্যাল ভর্তি ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত নয়, বরং সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা বনাম রাজ্যের নিজস্ব ভর্তি নীতি—এই বৃহত্তর বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি কেন্দ্রীভূত পরীক্ষার মাধ্যমে দেশজুড়ে অভিন্ন ভর্তি ব্যবস্থা বজায় রাখার পক্ষে যেমন যুক্তি রয়েছে, তেমনই রাজ্যের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে পৃথক ব্যবস্থা চালুর পক্ষেও মত রয়েছে।

তাই তামিলনাড়ু বিধানসভার এই প্রস্তাবের পর NEET-এর ভবিষ্যৎ, রাজ্যের শিক্ষানীতি এবং মেডিক্যাল ভর্তির ক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: তামিলনাড়ু বিধানসভায় NEET থেকে রাজ্যকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি তুলে প্রস্তাব পাস হয়েছে। রাজ্য সরকার দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে MBBS ও BDS-এ ভর্তি চালুর পক্ষে। তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার জন্য পরবর্তী সাংবিধানিক ও কেন্দ্রীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।