অভিযোগের ভিত্তিতে ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েল গ্রেপ্তার, ৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ

অভিযোগের ভিত্তিতে ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েল গ্রেপ্তার, ৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ

অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক পোড়েল গ্রেপ্তার

ধর্ষণ ও একাধিক গুরুতর অভিযোগের মামলায় বাংলার ক্রিকেটার এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অভিষেক পোড়েলকে গ্রেপ্তার করেছে হুগলির মগরা থানার পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর ১০ অগস্ট গভীর রাতে চন্দননগরের বাড়ি থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন তাঁকে চুঁচুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেশ করা হলে আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

কী অভিযোগ উঠেছে ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে?

অভিযোগকারী কর্ণাটকের এক তৃতীয় বর্ষের মেডিক্যাল ছাত্রী। তাঁর দাবি, অভিষেক পোড়েলের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তাঁর সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিষেক তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২৩ জুন মগরা থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়।

অভিযোগকারিণীর আরও দাবি, ২ এপ্রিল ২০২৬ দিল্লিতে দেখা করতে গেলে তাঁকে একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং খাবার দেওয়া হয়নি। ওই ঘটনার পর তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে চাপ দেওয়া এবং ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও করা হয়েছে।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিযোগকারিণী

পুলিশের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে অভিযোগকারিণী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ ছিল, থানায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ যথেষ্ট সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশের পর পুলিশ অভিষেক পোড়েলকে গ্রেপ্তার করে।

আদালতের নির্দেশের মধ্যে ক্রিকেটারের ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলি বাজেয়াপ্ত করে তদন্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার বিষয়টিও ছিল। ফলে মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য এই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পুলিশ অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করতে তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

তিন দিনের পুলিশি হেফাজত

গ্রেপ্তারের পর ১১ অগস্ট অভিষেক পোড়েলকে চুঁচুড়ার CJM আদালতে পেশ করা হয়। শুনানির পর আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এই সময়ে পুলিশ অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখবে এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও পরীক্ষা করতে পারে।

মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৬৯-সহ তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারা ৬৯ বিয়ের প্রতিশ্রুতি-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মামলার তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগগুলির বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন ক্রিকেটার

গ্রেপ্তারের আগে অভিষেক পোড়েল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ক্রিকেটে ভালো ফর্মে থাকার সময় তাঁর কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। ফলে মামলায় অভিযোগকারিণীর বক্তব্যের পাশাপাশি ক্রিকেটারের বক্তব্যও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তদন্তে এখন কী গুরুত্বপূর্ণ?

মামলাটি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন। অভিযোগকারিণীর বয়ান, এফআইআরে উল্লেখ করা ঘটনাগুলি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং ডিজিটাল ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই হবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: অভিষেক পোড়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি এখনও বিচারাধীন। গ্রেপ্তার বা পুলিশি হেফাজত কোনও ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে না। মামলার তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই অভিযোগগুলির আইনি নিষ্পত্তি হবে।

```