ডিপফেক ও অনলাইন অপরাধ রুখতে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, AI কনটেন্টে নতুন নিয়ম

ডিপফেক ও অনলাইন অপরাধ রুখতে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, AI কনটেন্টে নতুন নিয়ম

ডিপফেক ও অনলাইন অপরাধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর মাধ্যমে তৈরি ডিপফেক এবং ক্ষতিকারক অনলাইন কনটেন্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনও ডিপফেক ভিডিও ফরেনসিক পরীক্ষায় ভুয়ো প্রমাণিত হওয়ার আগেই তা কোনও ব্যক্তির পরিচয়, কর্মজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক সম্মান এবং মানসিক সুস্থতার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এমন ঘটনায় আইনি প্রতিকারে সামান্য বিলম্বও ভুক্তভোগীর জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও কমিশনগুলিকে যৌথভাবে ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ

ডিপফেক ও অনলাইন অপরাধ মোকাবিলায় আদালত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA), আইন ও বিচার মন্ত্রক, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-এর পাশাপাশি জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) এবং জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (NCPCR)-কে যৌথভাবে একটি জরুরি রেসপন্স মেকানিজম বা আইনি কাঠামো তৈরির বিষয়ে কাজ করতে বলেছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হবে AI-নির্ভর ক্ষতিকারক কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করা, অভিযোগের পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর প্রতিকারের ব্যবস্থা তৈরি করা।

কোন কোন অনলাইন অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

প্রস্তাবিত আইনি ব্যবস্থার আওতায় একাধিক ধরনের অনলাইন অপরাধকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে AI-চালিত ক্ষতিকারক ডিপফেক ছড়িয়ে দেওয়া, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা এবং অনলাইনে নারীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা শারীরিক হিংসার হুমকি দেওয়া। শিশুদের বিরুদ্ধে সাইবার নির্যাতন ও ক্ষতিকারক ডিজিটাল কনটেন্ট ছড়ানোর ঘটনাও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

নতুন আইনে AI ডিপফেক ও Digital Arrest অপরাধ হতে পারে

সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের পর কেন্দ্র সরকার নতুন একটি খসড়া আইন তৈরির কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। প্রস্তাবিত আইনে AI-ভিত্তিক ডিপফেক জালিয়াতি এবং ‘Digital Arrest’-এর মতো নতুন ধরনের সাইবার অপরাধকে নির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ধরনের অপরাধকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা BNS-এর অধীনে আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে অনলাইন প্রতারণা ও AI-নির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবেদনশীল কনটেন্ট সরানোর সময় কমছে

সংশোধিত IT Rules, 2021 অনুযায়ী, নগ্নতা, পরিচয় জাল করা বা ছদ্মবেশ ধারণের মতো সংবেদনশীল কনটেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের কনটেন্ট ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলার বিষয়ে কঠোর সময়সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে অভিযোগ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষতিকারক ছবি বা ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিপফেক বা ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনায় দ্রুত কনটেন্ট অপসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Meta-কে অ্যালগরিদম পরিবর্তনের নির্দেশ

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা Meta-কে তাদের প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়ার কথাও সামনে এসেছে। এর লক্ষ্য হল AI-নির্ভর ডিপফেক এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিল্টার বা ব্লক করার সক্ষমতা বাড়ানো।

এছাড়াও AI দিয়ে তৈরি অনুমোদিত কনটেন্টে স্পষ্ট AI লেবেল এবং ট্রেসযোগ্য মেটাডেটা রাখার ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা কোনও ছবি, ভিডিও বা অন্য কনটেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে কি না, তা সহজে বুঝতে পারবেন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান?

AI প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ভুয়ো ছবি, ভিডিও, কণ্ঠস্বর এবং পরিচয় তৈরি করা আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ডিপফেক, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, অনলাইন হুমকি এবং ডিজিটাল প্রতারণার মতো অপরাধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা এবং কেন্দ্রের প্রস্তাবিত নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর হলে AI-নির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ, কনটেন্ট অপসারণ, তদন্ত এবং ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ডিপফেক ও অনলাইন অপরাধ মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া, ক্ষতিকারক কনটেন্ট অপসারণ এবং AI-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্ত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন আইনি কাঠামোতে AI ডিপফেক জালিয়াতি ও Digital Arrest-এর মতো উদীয়মান সাইবার অপরাধকে আরও নির্দিষ্টভাবে ফৌজদারি আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।