চোখের চিকিৎসায় বিদেশ যেতে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে, মানতে হবে একাধিক শর্ত
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে অনুমতি অভিষেকের
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তবে এই অনুমতি একাধিক শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা। আদালত জানিয়েছে, বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর কোনও বাধা নেই। একই সঙ্গে একজন ব্যক্তির বিদেশে যাওয়া এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার অধিকারের কথাও আদালত উল্লেখ করেছে।
কী কী শর্ত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট?
সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুধুমাত্র তাঁর ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেই বিদেশ যেতে হবে। বিদেশে থাকার সময় তাঁর সফরসূচি এবং কোথায় থাকবেন, সেই তথ্য তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে হবে। পাশাপাশি যে চিকিৎসক বা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হওয়ার কথা, তার বিবরণ, বিদেশে থাকার সময়সীমা এবং বিমানযাত্রার তথ্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিদেশ সফরের এই বিস্তারিত তথ্য তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে। ফলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি মিললেও তদন্ত সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বজায় থাকবে।
কেন বিদেশ যাওয়ার অনুমতি নিয়ে আইনি জটিলতা?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসার যাওয়ার আবেদন নিয়ে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। ৫ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর বিদেশ যাওয়ার আবেদন খারিজ করেছিল। সেই সময় আদালত তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়নের জন্য কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে হাজির হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল।
এরপর হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। ৩ আগস্ট শীর্ষ আদালত বিষয়টি দ্রুত বিবেচনার জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের পর ফের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়।
রাজ্য সরকারের আপত্তি কী ছিল?
বিদেশ যাওয়ার আবেদনের বিরোধিতা করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের হয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু আদালতে জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে এবং বিদেশে গেলে তিনি দেশে ফিরে নাও আসতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।
অভিষেকের আইনজীবী অবশ্য এই যুক্তির বিরোধিতা করেন। তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিষেক একজন সাংসদ এবং তাঁর পরিবার ভারতে রয়েছে। রাজ্যের বক্তব্য এবং অভিষেকের পক্ষের যুক্তি শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
চিকিৎসার অধিকার নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট করে যে একজন ব্যক্তির বিদেশে যাওয়ার এবং নিজের চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে, অসুস্থতা বা শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা বেছে নেওয়ার বিষয়টি কখনও কখনও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন মঞ্জুর করে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়। তবে ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ব্যবহার এবং তদন্তকারী সংস্থাকে সফর ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।
এখন কী হবে?
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ সফরের আইনি বাধা আপাতত দূর হল। তবে বিদেশে যাওয়ার আগে আদালতের নির্ধারিত শর্তগুলি তাঁকে মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তদন্তের ক্ষেত্রেও তাঁকে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি অনুযায়ী বিদেশ সফরের সময়সীমা তিন সপ্তাহ। এই অনুমতি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট শর্তের অধীনেই কার্যকর হবে।