বীরভূমে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার, তিনজনকে আটক করে পুলিশের তল্লাশি
বীরভূমে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার, সোনাঝুরিতে পুলিশের অভিযান
বীরভূমে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। মহম্মদবাজার থানার দেউচা এলাকায় একটি বাড়িতে পুলিশি অভিযানে নগদ প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের পর এবার শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি এলাকাতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।
মহম্মদবাজারে বিপুল নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনাটি ইতিমধ্যেই বীরভূমে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। পুলিশ এই সম্পত্তির উৎস এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখছে। উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনার মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তদন্ত শুরু হওয়ার পরেই জেলার অন্যত্র সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মহম্মদবাজারে বিপুল নগদ ও সোনা উদ্ধার
পুলিশি অভিযানে মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকায় একটি বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। ওই বাড়িটি মিনার মণ্ডলের বলে জানা গিয়েছে। বিপুল সম্পত্তি উদ্ধারের পর পুলিশ তার উৎস এবং এই অর্থ ও সোনার সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় মিনার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকেও ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। মিনার মণ্ডলের ছেলে দাবি করেছেন, টাকা ও সোনা তাঁদের নয় এবং টুলু মণ্ডল নামে এক পাথর ব্যবসায়ী সেগুলি তাঁদের বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন। এই দাবির সত্যতা যাচাই করাও তদন্তের অংশ বলে জানা গিয়েছে।
সোনাঝুরিতে ফের পুলিশের অভিযান
মহম্মদবাজারের ঘটনার তদন্তের মধ্যেই শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনের দাবি, ওই বাড়িতে টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তিন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযানের সময় একটি দামি গাড়িও পুলিশের নজরে আসে।
তদন্তে যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে:
- মহম্মদবাজার থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদ অর্থ ও সোনার উৎস।
- উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা।
- টুলু মণ্ডলের সঙ্গে এই সম্পত্তির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না।
- সোনাঝুরিতে আটক তিন ব্যক্তির সঙ্গে আগের ঘটনার সম্পর্ক।
- বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তি ও অর্থের সম্ভাব্য লেনদেনের তথ্য।
সোনাঝুরি অভিযানের বিষয়ে পুলিশ এখনও বিস্তারিতভাবে কিছু জানায়নি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁদের কাছ থেকে কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা তদন্ত এগোনোর সঙ্গে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিপুল নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের পর বীরভূমে পুলিশের একের পর এক অভিযান ঘটনাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মহম্মদবাজার থেকে সোনাঝুরি পর্যন্ত তদন্তের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আগামী দিনে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।