সিএএ বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ, বৈধ আবেদনকারীদের হাতে নাগরিকত্বের নথি
সিএএ-র আওতায় নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেলেন সীমান্ত এলাকার আবেদনকারীরা
দেশজুড়ে ১৬তম জনগণনার কাজ শুরু হওয়ার পর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বাস্তবায়নকে ঘিরে নতুন পদক্ষেপ সামনে এসেছে। নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ৩০০ জন বৈধ আবেদনকারীর হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কয়েকজন আবেদনকারীর হাতে নিজেই শংসাপত্র তুলে দেন। :contentReference[oaicite:0]{index=0}
কেন্দ্র সরকার আগেই জানিয়েছিল, সিএএ-র আওতায় জমা পড়া আবেদনগুলির তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদান করা হবে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এদিন বৈধ আবেদনকারীদের হাতে সরকারি নথি তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বহু বাসিন্দা নাগরিকত্বের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। ফলে এই অনুষ্ঠানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। :contentReference[oaicite:1]{index=1}
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে যাঁরা নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার সিএএ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইন কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যেই প্রণীত হয়েছে। :contentReference[oaicite:2]{index=2}
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অনেকের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করা হয়েছিল যে সিএএ এবং এনআরসি একই বিষয়। পাশাপাশি আবেদন করলে রেশন, ভাতা বা পেনশনের মতো সরকারি সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা ছড়ানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, এই কারণে বহু মানুষ আবেদন করতে দেরি করেছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০২৪ সালে সংশ্লিষ্ট বিধি জারি করার পর নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে। :contentReference[oaicite:3]{index=3}
তিনি জানান, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য সিএএ-তে নাগরিকত্বের বিধান রয়েছে। দেশভাগ-পরবর্তী সময়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বহু মানুষের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের দাবির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ৩০০ জন বৈধ আবেদনকারী নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন।
- অনুষ্ঠানটি নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।
- সিএএ-র আওতায় আবেদন যাচাইয়ের পর পর্যায়ক্রমে শংসাপত্র প্রদান করা হচ্ছে।
- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আইনটি নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য প্রণীত, কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়।
- রাজ্যে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার আবেদনকারীকে সিএএ-র আওতায় নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে এবং বাকি আবেদনও নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তির কথা জানানো হয়েছে। :contentReference[oaicite:4]{index=4}
অতিরিক্ত তথ্য
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার সরকারি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানায়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী ২০১৯ সালে সিএএ কার্যকর করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন এগিয়ে চলেছে। রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রের সমন্বয়ে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। :contentReference[oaicite:5]{index=5}