অবৈধ কয়লা খননের ছবি পাঠালেই ব্যবস্থা, নতুন উদ্যোগ ইসিএলের
কয়লা চুরি রোধে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করছে ইসিএল
অবৈধ কয়লা খনন ও কয়লা চুরি রুখতে এবার সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ চাইল ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খনি এলাকায় কোথাও অবৈধ খনন বা কয়লা চুরির ঘটনা চোখে পড়লে সাধারণ মানুষও সরাসরি তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবেন। এ জন্য ব্যবহার করতে হবে ‘খনন প্রহরী’ (Khanan Prahari) মোবাইল অ্যাপ।
ইসিএলের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল খনি এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা এবং অবৈধ খনন ও কয়লা পাচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। সংস্থার কর্মীদের পাশাপাশি এবার স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ নাগরিকদেরও এই ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসিএল সূত্রে জানানো হয়েছে, কেউ যদি কোথাও অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন বা কয়লা চুরির ঘটনা দেখতে পান, তাহলে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ ‘খনন প্রহরী’ অ্যাপে আপলোড করতে পারবেন। অভিযোগ জমা পড়ার পর তা সরাসরি ইসিএলের নিরাপত্তা বিভাগের কাছে পৌঁছে যাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা ঘটনাস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সংস্থা আরও জানিয়েছে, যাঁরা তথ্য বা ছবি পাঠাবেন, তাঁদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। অভিযোগকারীর নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও ইসিএলের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- ‘খনন প্রহরী’ অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ অবৈধ কয়লা খনন বা কয়লা চুরির অভিযোগ জানাতে পারবেন।
- অভিযোগের সঙ্গে ঘটনাস্থলের ছবি ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ আপলোড করতে হবে।
- অভিযোগ সরাসরি ইসিএলের নিরাপত্তা বিভাগের কাছে পৌঁছে যাবে।
- তথ্যদাতার নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে ইসিএল।
- অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাবে।
‘খনন প্রহরী’ অ্যাপের উদ্দেশ্য ও কার্যপ্রণালী
‘খনন প্রহরী’ মোবাইল অ্যাপে খনি এলাকার মানচিত্রের পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহারকারীকে অবৈধ খননের স্থান, সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং ঘটনাস্থলের ছবি আপলোড করতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিভাগ দ্রুত তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের উদ্যোগে কয়লা চুরি প্রতিরোধের লক্ষ্যে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়। এতদিন মূলত ইসিএলের কর্মীরাই এই অ্যাপ ব্যবহার করতেন। তবে এবার সংস্থা খনি এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকেও এই উদ্যোগে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসিএলের এক আধিকারিক সতীশকুমার ঝা জানিয়েছেন, কয়লা দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এই সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই অবৈধ কয়লা খনন ও চুরি রোধে সাধারণ মানুষকে ‘খনন প্রহরী’ অ্যাপ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থা।