নির্মাণসামগ্রী রাস্তায় ফেলে রাখলেই কড়া ব্যবস্থা, নতুন নির্দেশ জানালেন অগ্নিমিত্রা পাল
রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী রাখায় কড়া অবস্থান রাজ্য সরকারের
বাড়ি নির্মাণের সময় রাস্তার উপর ইট, বালি, পাথর বা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার প্রবণতা রুখতে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী রেখে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জরিমানা দিতে হবে।
রবিবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাড়ি নির্মাণের নামে সরকারি রাস্তা দখল করে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা আর চলবে না। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা বাড়ি তৈরি করছেন, তাঁদের নিজেদের জমির মধ্যেই নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণ করতে হবে। রাস্তা কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, নতুন এই ব্যবস্থা ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শহর ও শহরতলির রাস্তাঘাট আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং যানবাহন ও পথচারীদের জন্য নির্বিঘ্ন রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিন অগ্নিমিত্রা পাল ফাঁকা জমি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, কেউ জমি কিনে দীর্ঘদিন ফেলে রাখলে সেই জমি পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও জমির মালিকের। জমিতে ঝোপঝাড়, নালা-নর্দমা বা জল জমে থাকলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জমি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, যেমন নিজের বাড়ি, বাড়ির সামনের অংশ বা বাগান পরিষ্কার রাখা নাগরিকের দায়িত্ব, তেমনই ফাঁকা জমির ক্ষেত্রেও একই দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যের অসুবিধা বা জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হয় এমন পরিস্থিতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় ইট, বালি, পাথরসহ নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখলে জরিমানা করা হবে।
- নির্মাণসামগ্রী নিজের জমির ভেতরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী।
- ফাঁকা জমি পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
- ডেঙ্গিসহ জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জমি পরিচ্ছন্ন রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- ফুটপাত দখল ও বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বেআইনি পার্কিং ও ফুটপাত দখল নিয়েও কড়া বার্তা
অগ্নিমিত্রা পাল জানান, নির্ধারিত পার্কিং এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি রাখা যাবে না। এই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে রাজ্য সরকার একটি নতুন পার্কিং অ্যাপ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি ফুটপাথে গাড়ি বা মোটরবাইক পার্কিং করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
ফুটপাত দখল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হকারদের নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। যাঁরা ফুটপাতের সম্পূর্ণ অংশ দখল করে বসে রয়েছেন, তাঁদের পিছিয়ে গিয়ে পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণানুসারে দুর্গাপুজো পর্যন্ত কোথাও হকার উচ্ছেদ করা হবে না। সরকারের লক্ষ্য আইন মেনে জনস্বার্থ ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।