যাদবপুরে সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, দলীয় কার্যালয়ে তালা; খুলে ফেলা হল নেমপ্লেট

যাদবপুরে সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, দলীয় কার্যালয়ে তালা; খুলে ফেলা হল নেমপ্লেট

যাদবপুরে সায়নী ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ

যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষকে ঘিরে দলের অন্দরের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এল। কলকাতার গড়ফা এলাকায় তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সায়নী ঘোষের নেমপ্লেটও খুলে ফেলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়ফা এলাকার দুলাল দাস ঠাকুর ভবনে অবস্থিত তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের ওই অফিস থেকেই সায়নী ঘোষ দলীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতেন বলে জানা যায়। বিক্ষোভের সময় কার্যালয়ের বাইরে একাধিক পোস্টার ও ব্যানার দেখা যায়। সেখানে সায়নী ঘোষকে নিশানা করে বিভিন্ন স্লোগানও লেখা ছিল।

কারা বিক্ষোভ দেখালেন?

জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বলে পরিচিত তৃণমূলের একাংশের কর্মীরা এই বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর নেত্রী বসুন্ধরা গোস্বামী। বিক্ষোভকারীদের হাতে পোস্টার ও ব্যানার ছিল। কিছু পোস্টারে সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তিকর রাজনৈতিক স্লোগান লেখা ছিল। এমনকি কয়েকজন বিক্ষোভকারীর হাতে কালো বিড়ালের ছবিও দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দলীয় কার্যালয়ের বাইরে ‘কোনও গদ্দার এই অফিসে ঢুকবে না’ লেখা পোস্টারও লাগানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের স্থানীয় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, সায়নী ঘোষের রাজনৈতিক বা জনসংযোগমূলক কাজের জন্য ওই দলীয় কার্যালয় ব্যবহার করা নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে।

কার্যালয়ে তালা, খুলে ফেলা হল নেমপ্লেট

বিক্ষোভের সময় দলীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কার্যালয় থেকে সায়নী ঘোষের নেমপ্লেট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে সায়নী ঘোষের এক সহকারী উপস্থিত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভের সময় তাঁকেও কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুরো ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকাশ্যে তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল

যাদবপুরে এই বিক্ষোভের ঘটনায় তৃণমূলের স্থানীয় স্তরে মতবিরোধের ছবি স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ১০৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং গড়ফা সংলগ্ন এলাকায় দলের একাংশের সঙ্গে সায়নী ঘোষের শিবিরের দূরত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে দলীয়ভাবে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই ঘটনায় সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের পাশাপাশি পাল্টা বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কার্যালয়ে তালা দেওয়া এবং নেমপ্লেট সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সায়নী ঘোষ বা তাঁর ঘনিষ্ঠ শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে এই ঘটনার পর দলের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: এই ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ও প্রকাশ্যে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানা গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

যাদবপুরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি

যাদবপুর দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি লোকসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের সাংসদ সায়নী ঘোষকে ঘিরে দলীয় কার্যালয়ে এমন প্রকাশ্য বিক্ষোভ তৃণমূলের স্থানীয় সংগঠনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন এই বিক্ষোভের পর দলীয় নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয় এবং স্থানীয় স্তরে পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়, সেটাই দেখার বিষয়।