১৫ অগস্টের আগে কলকাতায় তেরঙ্গা নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই, মমতার মিছিল ঘিরে নতুন সমীকরণ
১৫ অগস্টের আগে কলকাতায় তেরঙ্গা ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন
স্বাধীনতা দিবসের আগে কলকাতায় জাতীয় পতাকা হাতে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সোমবার গোষ্ঠ পাল সরণি থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উত্তর গেট পর্যন্ত আয়োজিত পদযাত্রায় জাতীয় পতাকা হাতে নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিল ঘিরে সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের উপস্থিতি ছিল।
প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ ধরে এই পদযাত্রা হয়। স্বাধীনতা দিবসের কয়েক দিন আগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্য সরকার দেশপ্রেম ও জাতীয় সংহতির বার্তা তুলে ধরতে চেয়েছে। একই সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের কর্মসূচি ও বক্তব্যের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সক্রিয় হয়েছে।
গোষ্ঠ পাল সরণি থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত মিছিল
সোমবারের কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ছাড়াও সাধারণ মানুষ এবং ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেন। গোষ্ঠ পাল সরণি থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রাটি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উত্তর গেট পর্যন্ত যায়। স্বাধীনতা দিবসের আগে কলকাতার রাস্তায় এই তেরঙ্গা মিছিল রাজনৈতিক এবং সামাজিক—দুই ক্ষেত্রেই তাৎপর্য তৈরি করেছে।
এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে ১৫ অগস্টের আগে রাজ্যে জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রচারের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শাসকদলের কর্মসূচির পাশাপাশি বিরোধীরাও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং জাতীয়তাবাদের প্রশ্ন সামনে এনে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরছে।
বিরোধীদের পাল্টা রাজনৈতিক অবস্থান
স্বাধীনতা দিবসের আগে জাতীয় পতাকা ও দেশপ্রেমের বার্তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সক্রিয়তা বেড়েছে। বিজেপি জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখে নিজেদের কর্মসূচি চালাচ্ছে। অন্যদিকে বাম ও কংগ্রেসের তরফে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এবং তার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সামনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে ১৫ অগস্টের আগে কলকাতায় জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক বক্তব্য আরও জোরালো হচ্ছে।
- গোষ্ঠ পাল সরণি থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার মিছিল হয়।
- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় পতাকা হাতে পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।
- সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য মিছিলে অংশ নেন।
- ১৫ অগস্টের আগে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার জোরদার হয়েছে।
- বিরোধী দলগুলিও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে।
১৫ অগস্টের সরকারি অনুষ্ঠান ও রক্ষা বন্ধন
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৫ অগস্ট রেড রোডে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এ বছর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রক্ষা বন্ধন উৎসব পালনের ঘোষণাও করা হয়েছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসের সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও সামনে আসছে।
সব মিলিয়ে ১৫ অগস্টের আগে কলকাতায় জাতীয় পতাকা ও দেশপ্রেমের বার্তাকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। একদিকে রাজ্য সরকারের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি, অন্যদিকে বিরোধীদের পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্য—দুইয়ের জেরে স্বাধীনতা দিবসের আগে বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে জাতীয়তাবাদ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।