হাওড়া ব্রিজের বিস্ময়কর ইতিহাস: নদীতে একটিও পিলার নেই, নাট-বল্টুও ছাড়াই তৈরি এই সেতু

হাওড়া ব্রিজের বিস্ময়কর ইতিহাস: নদীতে একটিও পিলার নেই, নাট-বল্টুও ছাড়াই তৈরি এই সেতু

হাওড়া ব্রিজের অনন্য স্থাপত্য

কলকাতার রবীন্দ্র সেতু বা হাওড়া ব্রিজ ভারতের অন্যতম পরিচিত স্থাপত্য নিদর্শন। ১৯৪৩ সালে চালু হওয়া এই ঐতিহাসিক সেতুর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, হুগলি নদীর মাঝখানে কোনো নদীগর্ভস্থ স্তম্ভ ছাড়াই এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

নাট-বল্টু ছাড়াই বিশাল ইস্পাত কাঠামো

হাওড়া ব্রিজের প্রায় ২৬,০০০ টন ইস্পাতের কাঠামো রিভেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে জোড়া দেওয়া হয়েছিল। প্রচলিত নাট-বল্টুর পরিবর্তে উত্তপ্ত রিভেট ব্যবহার করে বিভিন্ন ইস্পাত অংশকে শক্তভাবে সংযুক্ত করা হয়।

সেতুটির নকশায় ক্যান্টিলিভার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দুই পাড়ের বিশাল কাঠামোর ভারসাম্যের মাধ্যমে নদীর ওপর সেতুটি দাঁড়িয়ে রয়েছে, ফলে মাঝনদীতে আলাদা পিলারের প্রয়োজন হয়নি।

টাটা স্টিলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই বিশাল প্রকল্পে দেশীয় ইস্পাত ব্যবহারের ক্ষেত্রে টাটা স্টিল-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। জামশেদপুরের কারখানা থেকে সেতুর নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ইস্পাত সরবরাহ করা হয়েছিল।

যুদ্ধের সময় গোপনে চালু হয়েছিল সেতু

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বিমান হামলার আশঙ্কার কারণে সেতুর উদ্বোধন ঘিরে বড় কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠান করা হয়নি। ১৯৪৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সেতুটি আনুষ্ঠানিক জাঁকজমক ছাড়াই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

আজও কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা

দীর্ঘ কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও হাওড়া ব্রিজ কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সংযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করেন।

রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ নজর

দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার এবং পরিবেশগত প্রভাবের কারণে সেতুর ইস্পাত কাঠামোকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানের পিক ও পাখির মলের মতো ক্ষয়কারী উপাদান থেকে ইস্পাতকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার, বিশেষ পেইন্ট ও প্রতিরক্ষামূলক কোটিংয়ের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কলকাতার এক জীবন্ত ঐতিহ্য

প্রকৌশল, ইতিহাস এবং নগরজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হাওড়া ব্রিজ আজ শুধু একটি সেতু নয়, কলকাতার অন্যতম পরিচিত প্রতীক। নদীর ওপর পিলার ছাড়াই বিশাল ইস্পাত কাঠামোকে দাঁড় করিয়ে রাখার প্রকৌশলগত কৌশল আজও এই সেতুকে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র করে রেখেছে।