কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত ২৪০ ছাড়াল; ধ্বংসস্তূপে বহু মানুষ
কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২৪০ জনে পৌঁছেছে। ১০ আগস্ট ২০২৬, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। শক্তিশালী কম্পনে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল কোথায়?
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল কলম্বিয়ার চোকো প্রদেশের সান জোসে দেল পালমার এলাকার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে। রাজধানী বোগোতা থেকে এলাকাটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে ছিল।
শক্তিশালী এই ভূকম্পনের প্রভাব শুধু কলম্বিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পার্শ্ববর্তী ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা এবং পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। রাজধানী বোগোতার বহুতল ভবনগুলো থেকেও আতঙ্কে বহু মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
মৃতের সংখ্যা ২৪০, আহত ১,২০০-র বেশি
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ২৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১,২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহর
কলম্বিয়ার ক্যালি, পেরেইরা, কুইবদো, মানিজালেস এবং আর্মেনিয়া শহরে ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। পেরেইরা শহরেই অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্যালির একটি হাসপাতালে শিশু চিকিৎসা বিভাগসহ একাধিক তলা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে।
- ভূমিকম্পের মাত্রা: ৭.৪
- সময়: ১০ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৭:৩৪ মিনিট
- কেন্দ্রস্থল: সান জোসে দেল পালমার, চোকো
- ভূমিকম্পের গভীরতা: প্রায় ১০৩ কিলোমিটার
- মৃত: ২৪০ জনের বেশি
- আহত: ১,২০০ জনের বেশি
- ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া ভবন: প্রায় ১,৬০০টি
- সম্পূর্ণ ধসে পড়া বহুতল ভবন: অন্তত ৬১টি
বিমানবন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব
ভূমিকম্পের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে পেরেইরা ও ক্যালিসহ সাতটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
জাতীয় বিপর্যয় ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ভূমিকম্পের ভয়াবহতার পর কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দেশে জাতীয় বিপর্যয় ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে দেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। জরুরি তহবিল বরাদ্দ এবং উদ্ধারকাজ দ্রুত করার জন্য সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।
ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান
আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী এবং বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী একসঙ্গে কাজ করছেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করতে দিন-রাত অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘোষণা
ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, ইকুয়েডর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন জরুরি আর্থিক সহায়তা ও উদ্ধারকাজে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাড়ছে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন এবং বেশ কিছু এলাকায় উদ্ধারকারী দল এখনও পৌঁছাতে পারেনি। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া কঠিন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ৭.৪ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্প কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। শত শত মানুষের মৃত্যু, হাজারের বেশি আহত এবং বিপুল পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পর সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।