ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্পকে বাঁচাতে গোপন অপারেশন, ক্যাটারিং ট্রাকে বিমানবদল

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্পকে বাঁচাতে গোপন অপারেশন, ক্যাটারিং ট্রাকে বিমানবদল

ট্রাম্পকে রক্ষায় নজিরবিহীন গোপন অপারেশন

ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রক্ষায় একটি অত্যন্ত গোপন নিরাপত্তা অভিযান চালিয়েছিল বলে জানা গেছে। ২০২৬ সালের ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারা বিমানবন্দরে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের দেশে ফেরার সময় এই বিশেষ অপারেশন চালানো হয়।

কেন ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল?

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য আসে যে, ট্রাম্পের তুরস্ক সফর শেষে ফেরার পথে তার বিমানে হামলার পরিকল্পনা করা হতে পারে। ইরানের প্রক্সি বাহিনী এই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে কারণ ট্রাম্প যে কাতারি উপহারের নতুন বিমান ব্যবহার করছিলেন, সেটিতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী লেজার প্রযুক্তি ছিল না বলে জানা যায়।

ক্যাটারিং ট্রাক দিয়ে কীভাবে ট্রাম্পকে সরানো হয়?

নিরাপত্তা পরিকল্পনার সবচেয়ে নাটকীয় অংশ ছিল ট্রাম্পকে বিমান থেকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে পুরোনো Air Force One বিমানে উঠতে দেখা গেলেও বিমানের ভেতরে ঢোকার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।

বিমানের অপর পাশে একটি ক্যাটারিং ট্রাক আনা হয়। খাবার সরবরাহের গাড়ির আড়াল ব্যবহার করে ট্রাম্পকে গোপনে বিমান থেকে নামিয়ে রানওয়েতে অপেক্ষমাণ একটি ছোট C-32A সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল যাতে উপস্থিত সাংবাদিক বা ক্যামেরার চোখে বিষয়টি না পড়ে।

Air Force One-কে ডিকয় হিসেবে ব্যবহার

ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়ার পর মূল Air Force One বিমানটি তার যাত্রা অব্যাহত রাখে। অর্থাৎ বিমানটি ট্রাম্পকে ছাড়াই আকাশে উড়ে যায় এবং সম্ভাব্য হামলাকারীদের বিভ্রান্ত করতে ডিকয় বা ছদ্মবেশী বিমান হিসেবে কাজ করে। বিমানে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল, যাতে ট্রাম্প কখন বিমান থেকে বেরিয়ে অন্য বিমানে উঠেছেন তা তারা দেখতে না পারেন।

ছোট সামরিক বিমানে নিরাপদে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান ট্রাম্প

গোপন স্থানান্তরের পর ট্রাম্প C-32A সামরিক বিমানে করে নিরাপদে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছানোর পর ডিকয় বিমানটি অবতরণ করলে ট্রাম্প আবার সেই বিমানে ফিরে যান। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সামনে স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত হন, ফলে পুরো ঘটনাটি বাইরে থেকে একটি সাধারণ বিমানযাত্রা বলেই মনে হয়।

কেন এত গোপন রাখা হয়েছিল?

এই অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পের প্রকৃত অবস্থান এবং ব্যবহৃত বিমানের তথ্য সম্ভাব্য হামলাকারীদের কাছ থেকে গোপন রাখা। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে ট্রাম্পের গতিবিধি প্রকাশ্যে চলে আসার ঝুঁকিও কমানো হয়েছিল। হোয়াইট হাউজ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অপারেশনটির বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

আগস্টে সামনে আসে গোপন অভিযানের তথ্য

২০২৬ সালের আগস্টে মার্কিন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই গোপন নিরাপত্তা অভিযানের তথ্য প্রকাশ্যে আসে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অপারেশনটির বিস্তারিত সামনে আসার পর ট্রাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো

  • অপারেশনের তারিখ: ৮ জুলাই ২০২৬
  • স্থান: আঙ্কারা বিমানবন্দর, তুরস্ক
  • নিরাপত্তা সংস্থা: মার্কিন Secret Service
  • সম্ভাব্য হুমকি: ইরান-সমর্থিত প্রক্সি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
  • গোপন স্থানান্তরের মাধ্যম: ক্যাটারিং ট্রাক
  • বিকল্প বিমান: C-32A সামরিক বিমান
  • মূল বিমান: Air Force One
  • মূল বিমানকে সম্ভাব্য ডিকয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়
  • গন্তব্য: যুক্তরাজ্য

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ট্রাম্পকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে আঙ্কারা বিমানবন্দরে যে গোপন নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে ট্রাম্পকে একটি বিকল্প সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া এবং মূল বিমানটিকে ডিকয় হিসেবে উড্ডয়ন করানো।