ওড়িশা থেকে কলকাতাগামী মালবাহী অটোতে গাঁজা উদ্ধার, পশ্চিম মেদিনীপুরে গ্রেফতার চালক

ওড়িশা থেকে কলকাতাগামী মালবাহী অটোতে গাঁজা উদ্ধার, পশ্চিম মেদিনীপুরে গ্রেফতার চালক

সবংয়ে ৪৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার এক ব্যক্তি

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবংয়ে পুলিশের অভিযানে একটি মালবাহী অটো থেকে প্রায় ৪৪ কিলোগ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা দীপঙ্কর বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ওড়িশা থেকে মাদক নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিযুক্ত এবং জাতীয় সড়ক এড়িয়ে গ্রামের রাস্তা ও অলিগলি ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে আগে থেকেই খবর ছিল যে ওই রুট দিয়ে মাদক পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। সবং ব্লকের ১১ নম্বর অঞ্চলের চাবুকিয়া এলাকায় একটি মালবাহী অটো সন্দেহজনকভাবে গ্রামের রাস্তা ধরে যেতে দেখে পুলিশ সেটিকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। চালকের বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিতে দেখা যায়, চালকের আসনের পিছনের অংশে বিশেষভাবে স্ক্রু দিয়ে একটি গোপন চেম্বার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে এমনভাবে মাদকের প্যাকেট লুকিয়ে রাখা ছিল যে বাইরে থেকে তা বোঝার কোনও উপায় ছিল না। পরে সেই গোপন অংশ খুলে প্রায় ৪৪ কিলোগ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, জাতীয় সড়কে চলা নিয়মিত নাকা তল্লাশি এড়াতেই অভিযুক্ত গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে ছোট রাস্তা, গ্রামাঞ্চলের পথ এবং অলিগলি ধরে এগোচ্ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ডেবরা পর্যন্ত পৌঁছে আবার অন্য বিকল্প পথ ধরে কলকাতা এবং সেখান থেকে উত্তর ২৪ পরগনায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
  • পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থেকে একটি মালবাহী অটো থেকে প্রায় ৪৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে।
  • গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম দীপঙ্কর বিশ্বাস, তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা।
  • গোপন চেম্বারে স্ক্রু দিয়ে মাদক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।
  • জাতীয় সড়ক এড়িয়ে গ্রামের রাস্তা ও অলিগলি ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।
  • মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তদন্তে মাদক পাচারচক্রের যোগসূত্র খোঁজা হচ্ছে

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজা ওড়িশার ঠিক কোন এলাকা থেকে আনা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই মাদক কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং গোটা পাচারচক্রে আর কারা যুক্ত রয়েছে, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

রবিবার ধৃতকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আরও তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং উদ্ধার হওয়া মাদক ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।