বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গির ঝুঁকি, মশা নিয়ন্ত্রণে জোর দিল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর
পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক প্রশাসন, জোরদার হচ্ছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
বর্ষাকাল শুরু হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য দফতর ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, পুরসভা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে নিয়মিত নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সম্ভাব্য সংক্রমণ দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত বৃষ্টি ও জমে থাকা পরিষ্কার জল এডিস মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে বাড়ির ছাদ, টব, টায়ার, কুলার, ড্রাম বা অন্যান্য পাত্রে জল জমে থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী, পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং রোগী পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি বজায় রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ফগিং, লার্ভা ধ্বংসের কাজ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক প্রচারও বাড়ানো হয়েছে। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, শরীরে ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা ত্বকে লাল দাগের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ সেবনের পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে ডেঙ্গি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা জরুরি।
ডেঙ্গি প্রতিরোধে যা করবেন
- বাড়ির আশপাশে কোথাও জল জমতে দেবেন না।
- জল সংরক্ষণের পাত্র সবসময় ঢেকে রাখুন।
- মশারি ব্যবহার করুন এবং সম্পূর্ণ হাত-পা ঢাকা পোশাক পরুন।
- জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- নিজের ইচ্ছায় ব্যথার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন না।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও অব্যাহত রয়েছে।