হামিম মণ্ডল তদন্ত: পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের যোগ, ডিজিটাল তথ্য যাচাইয়ে জোর এসটিএফের
হামিম মণ্ডল তদন্তে নতুন তথ্যের দাবি, জেরায় উঠে আসা সূত্র খতিয়ে দেখছে এসটিএফ
জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অর্পিতা সরকারকেও জেরা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, দু'জনের ডিজিটাল যোগাযোগ, বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে কথোপকথন এবং সম্ভাব্য পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এখন বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
এসটিএফ সূত্রের দাবি, হামিম মণ্ডলের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা অভিযোগ করছেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থানের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং তা কীভাবে আদান-প্রদান করা হত, সেই বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও যোগাযোগের রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাকিস্তানভিত্তিক একাধিক সন্দেহভাজন হ্যান্ডলারের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। অভিযোগ, পুলিশের পোশাক সংগ্রহের বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং সেই উদ্দেশ্যে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন, হামিমের মোবাইল ফোন থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সম্ভাব্য রুট ম্যাপও উদ্ধার হয়েছে। তবে এই সমস্ত তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এসটিএফের দাবি অনুযায়ী, তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় তরুণদের লক্ষ্য করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হতে পারে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ডিজিটাল তথ্য, চ্যাট হিস্ট্রি এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক ডিজিটাল তথ্য যাচাই করছে এসটিএফ।
- ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অর্পিতা সরকারকেও তদন্তের অংশ হিসেবে জেরা করা হচ্ছে।
- পাকিস্তানভিত্তিক সন্দেহভাজন হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- ডিজিটাল ডিভাইস, চ্যাট এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্য ফরেনসিকভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
- তদন্তের স্বার্থে হামিম ও অর্পিতাকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, অর্পিতা সরকারের সঙ্গে কয়েকটি সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। সেই যোগাযোগের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দিল্লির একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কেও কিছু তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি করা হলেও, তার সত্যতা এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, হামিম মণ্ডলকে পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এবং পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সম্ভাব্য যোগাযোগের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এই অভিযোগগুলির সত্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য তদন্ত চলছে। অর্পিতা সরকারের গ্রেপ্তারিকে সেই তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে এসটিএফ। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচার ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।