ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটে ৩০০ ফুট উচ্চতা কমে আহত ১৭, এয়ার ইন্ডিয়া সিইওকে তলব সরকারের
ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়া সিইওকে তলব
ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 ফ্লাইটে মাঝআকাশে আচমকা উচ্চতা কমে যাওয়া এবং যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার বিদায়ী সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনকে তলব করেছে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এবং ডিজিসিএ। ১১ অগস্ট ২০২৬ মন্ত্রকের সদর দপ্তরে এয়ার ইন্ডিয়ার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক হয়। বৈঠকে ফ্লাইটটির ঘটনা, বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপারেশনাল প্রোটোকল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাঝআকাশে প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা কমে যায়
ঘটনাটি ঘটে ৪ অগস্ট ২০২৬। ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করা এয়ার ইন্ডিয়ার Airbus A320neo বিমানটি ওড়িশার আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারায়। বিমানটি কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থিতিশীল হয়ে দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে। তবে আকস্মিক উচ্চতা পরিবর্তনের সময় বিমানের ভিতরে যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকজন আহত হন।
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানে ১৩৭ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। মোট ১৭ জন, যার মধ্যে ১৩ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য রয়েছেন, আহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে দিল্লিতে বিমান অবতরণের পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পাইলটের প্রাথমিক ডোপ টেস্ট ঘিরে তদন্ত
ঘটনার পর নিয়ম অনুযায়ী বিমানের পাইলটদের ডোপ টেস্ট করা হয়। সেই পরীক্ষায় বিমানের ক্যাপ্টেনের নমুনার প্রাথমিক স্ক্রিনিং রিপোর্ট ‘নট নেগেটিভ’ এসেছে বলে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত ফল নয়। নমুনা আরও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে পাইলট কোনও নিষিদ্ধ বা সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থ গ্রহণ করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।
চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদি পরীক্ষায় কোনও নিষিদ্ধ পদার্থের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পাইলটের বিরুদ্ধে বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তদন্ত চলাকালীন ওই ফ্লাইটের দুই পাইলটকেই উড়ানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
AAIB তদন্ত করছে, ব্ল্যাক বক্স পরীক্ষা
ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে Aircraft Accident Investigation Bureau বা AAIB। তদন্তকারীরা বিমানের Flight Data Recorder এবং Cockpit Voice Recorder সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছেন। এই দুই রেকর্ডার থেকে বিমানের উড়ানের সময়কার প্রযুক্তিগত তথ্য, উচ্চতার পরিবর্তন, ককপিটে কথোপকথন এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এয়ারবাসও তদন্তে সহায়তা করার জন্য বিশেষজ্ঞ পাঠানোর কথা জানিয়েছে। ফলে তদন্তে বিমানটির প্রযুক্তিগত অবস্থা, উড়ানের সময়কার পরিবেশ এবং ক্রুদের কার্যক্রম—সবকটি দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনও একটি কারণকে ঘটনার জন্য চূড়ান্তভাবে দায়ী করা হয়নি।
সরকারের নজরে এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা
১১ অগস্টের বৈঠকে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এবং DGCA এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা ও অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা এড়াতে কী ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেটিও আলোচনার অংশ ছিল।
এই ঘটনার তদন্তে বিমানটির প্রযুক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি পাইলটদের পরীক্ষার ফল এবং অন্যান্য অপারেশনাল তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক রিপোর্টে পাইলটের ডোপ টেস্ট নিয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষা
বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করলেও মাঝআকাশে হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনা বিমান নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুতরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা প্রযুক্তিগত ত্রুটি, উড়ানের পরিস্থিতি, ক্রুদের সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করছেন। চূড়ান্ত তদন্তের ফল প্রকাশের পরই ঘটনার সঠিক কারণ এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষার রিপোর্ট সম্পর্কে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল নয়। একইভাবে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমানটির উচ্চতা কমে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।